বেসরকারি ভূমি সেবা - আমার ভাবনা BDLAW ASK

বেসরকারি ভূমি সেবা - আমার ভাবনা

বেসরকারি ভূমি সেবা - আমার ভাবনা

মোঃ শহীদুল্লাহ

'বেসরকারী ভূমি সেবা' ধারণাটি কিংবা শব্দটি ইতোপূর্বে কেউ ব্যবহার করেনি। ভূমি সেবা হিসাবে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম চলমান থাকলেও বেসরকারী ভূমি সেবার ধারণা আমি প্রথম চিন্তা করি। শুধু শব্দের মধ্যে এর অর্থ নিহিত নয় এর সামগ্রিক কর্মকান্ড আরো ব্যাপক। 

সরকারিভাবে ভূমি সেবার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো ও সরকারি জনবল থাকলেও তা অপ্রতুল। যা আছে তাও জনবান্ধব সেবা না হওয়ায় মানুষের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকারি নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্য সৎ হলেও ভূমি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দের দৌরাত্ম কমেনি।

ভূমি দস্যুতা, ভূমি আগ্রাসন শব্দগুলির সাথে পত্রিকা মারফতে অনেক বেশি পরিচিত। ভূমির সুরক্ষাও এখন সময়ের দাবী। চর দখল, বনভূমি উজাড়, পাহাড় কাটা, নদী ভরাট, জমির প্রকৃতি পরিবর্তন ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ভূমির সুষম ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভূমির দখলদারিত্ব ও কুদৃষ্টির কারণে আগ্রাসী শক্তির শিকার হতে হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশকেও। আফ্রিকার খনিজ সমৃদ্ধ দেশগুলি নানাভাবে যুদ্ধে পীড়িত খনিজ ভূমির দখলকে কেন্দ্র করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি তেল, স্বর্ণ, ধর্মীয় দিক থেকে মূল্যবান হওয়ায় আজ চলছে ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধবিগ্রহ। মায়ানমারের আরাকান সমস্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, মায়ানমারের কৃষিজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরাকান একটি উর্বর কৃষি নির্ভর অঙ্গরাজ্য। মায়ানমার সরকার এর লোলুপ দৃষ্টি ত্যাগ করতে পারে না যেকারণে স্বায়ত্তশাসনের চিন্তাও মাথায় আনেনা।

পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশ্য অন্য কিছু নয়, পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিই লক্ষ্য। এজন্য জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, 

"আমি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ নই, মাটি চাই৷"

বাংলাদেশে শোনা যায়, নদী থেকে বালু উত্তোলন, উপকূলীয় বনভূমি দখল, পাহাড় নিধন ইত্যাদি ভূমির উপর নির্বিচারে আগ্রাসন চলছে। এর নির্মম পরিণতি হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনদুর্ভোগ।

আমরা দেখতে পায়, ব্রিটিশ শাসনামলে কৃষক ছিল নির্যাতীত, নিপীড়িত। তাদের স্বার্থ-সুরক্ষায় ১৮৮৫ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল Bengal Tenancy Act. আইনের বিভিন্ন প্রায়োগিক দিক থেকে অসঙ্গতি ও শাসকমহলের অবহেলার কারণে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি। শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের গোটা রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কৃষক প্রজা। কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য তিনি বিভিন্ন গণমুখী আইন প্রণয়ন করতে গণ আন্দোলন সৃষ্টি করে ব্রিটিশ সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে গেছেন। কৃষি ঋণ সালিশী আইন সেরকম একটি আইন ছিল। কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সারাজীবন আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। তারই আন্দোলনের ফলাফল জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ। ১৯৪৭ সালের পূর্বেই State Acquisition Tenancy Act এর খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের চাপে এই আইন পাশ করা হয়নি। যারফলে ১৯৫০ সালে এসে এই আইনটি পাশ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। এই আইন পাশের ফলে জমিদারদের নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে ভূমির মালিকানা প্রকৃত ভূমি চাষাদের নিকট ফেরত দেয়া হয় এবং জমিদারি মধ্যস্বত্ব বিলুপ্ত করা হয়। 

বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে আবাসন সংকট, ভূমির উপর বাড়ছে মানুষের চাপ। একসময়কার প্রতাপশালী জমিদারের ভূসম্পত্তি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে ভাগ হতে হতে বর্তমান প্রজন্মের মাথা গোঁজার ঠাঁইও মিলছেনা। নদী ভাঙ্গনের কারণে বাড়ছে ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা। বস্তি এলাকা, দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে ভূমির চাহিদা। ফলে ভূমির সাম্য ও সুষম বন্টন নিশ্চিত করা সময়ের দাবী। 

ভূমি নিয়ে পড়াশুনা করে উপলব্ধি করি যে, ভূমির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ শাসকগণ ফৌজদারি আইন কানুনের প্রবর্তন করে। ফৌজদারি বিভিন্ন নিয়ম বা শাস্তির আরোপ করা হয় ভূমির উপর ধার্যকৃত খাজনা আদায়ের জন্য প্রয়োজন হয় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ব্রিটিশ শাসনামলে খাজনার পরিমাণ আনা পয়সায় হলেও এগুলি মুদ্রার হিসাবে মাপকাঠি মাত্র। মূলত উক্ত পয়সা আনার বিপরীতে চাষা কতৃক জমিদারদের দিতে হতো কারি কারি ধান। ব্রিটিশ কিংবা জমিদারদের কাছে মুদ্রা নয় দেশীয় সম্পদ বা কৃষিজ পণ্য বিনিময় হতো। ঘটা করে খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠানকে পুন্যাহ বলা হতো। 

বাংলাদেশ সরকার জনগণ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে যদ্দুর সম্ভব মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা যাচ্ছে। কেননা জনগণ যে কর দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি টাকা বিভিন্ন ধাপে বা পর্যায়ে মধ্য স্বত্ব ভোগীরা খেয়ে ফেলছে। এতে জনগণের ওপর পড়ছে বাড়তি টাকার চাপ। জমির খাজনা যদি হয় ২৫০ টাকা সেজায়গায় খাজনা পরিশোধ কারীকে বলা হয় ২৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা গুলি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট অফিসের দালাল কর্মচারী সিন্ডিকেট। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার, উপসহকারী কর্মকর্তা, অফিস সহায়ক, পিয়ন, ক্লিনারসহ দালালরা খাজনার অতিরিক্ত টাকা আয়ের রমরমা বাণিজ্যে জড়িত। এই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চাপ থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে সরকার অনলাইনে খাজনা দেয়ার নিয়ম চালু করেছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সমস্ত ধরণের কাগজী মুদ্রার প্রচলন সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। 

নামজারী করতে সরকারি ফি: ১১৭০ টাকা সেখানে ১০,২০,৩০,৫০ লক্ষ থেকে শুরু করে ১ কোটিকেও ছাড়িয়ে যেতে শুনা গেছে জমির মূল্যের উপর ভিত্তি করে। নামজারী ফি: একটি নামমাত্র ফি: কেননা ইতোমধ্যে জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় মোটা দাগে ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে ক্রেতা থেকে। পূর্বের মালিকের নাম কর্তন করে জমি ক্রেতার নাম বসানোর কাজটি করার জন্য নামজারী ফি:। প্রকৃত পক্ষে হওয়া উচিত ছিল জমি রেজিস্ট্রেশনের সাথে সাথে পূর্বের মালিকের স্থলে নতুন মালিকের নাম সংশোধন করা। এতে একই জমি একাধিকবার বিক্রি বা প্রতারণা অনেকাংশে কমে যেত। অথচ উপজেলা ভূমি অফিস নামজারী বাণিজ্যের আখড়া হিসাবে পরিচিত হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিসের চারপাশের স্থানীয় অনেক লোকের নামজারী দালাল হিসাবে নাম ঢাক রয়েছে। তাদের বহু ভূসম্পত্তি, ৫-১০ তলা শফিংমল থেকে শুরু করে আলিশান ফ্ল্যাট বাড়ি ও বিশাল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে শুধু নামজারী দালালী করে। এখন এই নামজারী অনলাইনে করার বিধান করা হয়েছে। এরপরও তাদের মিথ্যা অপপ্রচার ও অনলাইনে নামজারী করতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা থেমে নেই। 

জমি কেনা বেচার ক্ষেত্রে সাফ কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয় এবং রেজিস্ট্রি ফি পরিশোধ করতে হয়। এই জমি রেজিস্ট্রেশনের ফি যদি আসে ২ লক্ষ সেখানে দলিল লিখক বাড়িয়ে আদায় করেন ৩ লক্ষ। ১ লক্ষ ভরেন দলিল লেখকের পকেটে। আরো রয়েছে এক জমির একাধিক দলিল রেজিস্ট্রির বাণিজ্য। এই অপকর্ম হয়ে এসেছে অনাদি কাল থেকে আজ পর্যন্ত। এগুলির সঠিক জবাব বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের হিস্যা কি অতীত দলিল লিখকরা দিতে পারবেন? যেহেতু রেজিস্ট্রি ফি হিসাব কয়েকটি খাতে পার্সেন্ট হিসাবে করা হয় এবং সময় সময় সার্কুলার দিয়ে কম বেশি করা হয়। এই হিসাব জনগণের জানার বাইরে ছিল, বুঝা ছিল দুরূহ বিষয় বা জানতে দেয়া হতোনা। এই দুরূহ, দূর্জ্ঞেয় বিষয়কে পুঁজি করে এবং মানুষের এই অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলে এসেছে তাদের অনাদি কালের  বনেদি ব্যবসা। টাকার পাহাড় করে ফেলেছে অতীতের দলিল লিখকরা। এই বাণিজ্য বন্ধের জন্য এখন রেজিস্ট্রি ফি ক্যালকুলেটর দেয়া হয়েছে ওয়েবসাইটে এবং অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রেশনের বিধানও বাস্তবায়ন হচ্ছে। 

অনলাইনে নামজারী কিংবা খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে কাগজী মুদ্রার প্রচলন বন্ধ করেও সরকার জনগণের হয়রানি বন্ধ করতে পারেনি। কারণ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কোন না কোন ফাঁক ফোকর তৈরি করে রাখে যাতে সেবা প্রার্থীদের নিকট থেকে উপরি কামাই করা যায় বিপরীতে জনগণের হয় হয়রানি। সরকারি ভূমি অফিসের সাথে রয়েছে তৃতীয় সুবিধাভোগী এক গোষ্ঠী যাকে আমরা দালাল বা সিন্ডিকেট হিসাবে চিনি। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে তাদের যোগসাজস রয়েছে। সরকার শত শত উদ্যোগ নিলেও একটু হলে বেকায়দা করে রাখবে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ মহল। এই জায়গাতে কাজ করতে চাই বেসরকারি ভূমি সেবা।

বেসরকারি ভূমি সেবা শুধু একটি সেবার নাম নয়, একটি বিপ্লবের নাম। ভূমি স্বার্থ রক্ষা, মালিকানা সুরক্ষা, গণ সচেতনতা সৃষ্টি, সম্পদের সুষম বন্টন, জনমুখী আইন প্রবর্তন, ২০০ বছরের পুরনো আইনের সংস্কার ইত্যাদি বেসরকারি ভূমি সেবার আওতাভুক্ত থাকবে। 

ভূমি সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিস ও কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দের জবাব দিহিতার পর্যায়ে নিয়ে আসা, পেশাদারিত্ব তৈরি বেসরকারি ভূমি সেবার উদ্দেশ্য। 

প্রচলিত ভূমি আইনের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, আইনের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতের জন্য কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ, গণ শুনানি, গণ সচেতনতা তৈরি আমাদের কাজ। 

বেসরকারী ভূমি সেবার কার্যক্রমকে যদি NGO তে রূপ দেয়া যায় তাহলে এই সেবার পরিধি আরো টেকসই হবে। সরকারি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদি একজন বেসরকারি ভূমি সেবার প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় যিনি সেবা কার্যক্রমের সরলীকরণ, অনিয়মের রিপোর্ট, ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রস্তাব, অভিযোগ গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া তিনি অফিসে যে সেবা কার্যক্রম আছে তাকে জবাবদিহিতা মূলক ও গণ হয়রানি বন্ধে সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। এতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবেন। বহিরাগত দালালের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। 

এভাবে উপজেলা ভূমি অফিস, সাব রেজিস্টার অফিসেও সরকারের পাশাপাশি আমাদের প্রতিনিধি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে জনগণের দুঃখ লাঘবে সহযাত্রী হিসেবে কাজ করতে পারে।

আমাদের জনবল ২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বেসরকারি ভূমি সেবা থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোটিকেও ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিটি মৌজায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে, উপজেলায় প্রতিনিধি থাকবে যারা তাদের এলাকাধীন কাজগুলো করবে। মৌজার প্রতিনিধিকে মৌজা প্রধান, উপপ্রধান, সদস্য ও তথ্য সংগ্রাহক হিসাবে নেয়া যেতে পারে। একই ভাবে প্রতিটি গ্রামে, ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে একইরকম প্রতিনিধি থাকবে। একটি মৌজা বা ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এক মৌজা প্রধান তার মৌজায় কতটি মৌজা ম্যাপ আছে সবগুলি তার অফিসে টাঙিয়ে রাখবে। প্রতিটি মৌজা ম্যাপ সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে। প্রয়োজনে একটি মৌজায় যত টি মৌজা ম্যাপ পাওয়া যাবে তত জন মৌজা প্রধান ১, ২, ৩... হিসাবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। এভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হলে বেসরকারি ভূমি সেবার জনবল ৫ লক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

জনবল নিয়োগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

মোট মৌজা ১,৩৮,৪১২ টি

মোট গ্রাম ৮৭,১৯১ টি

মোট ওয়ার্ড ৪১,২০২ টি

মোট ইউনিয়ন ৪,৫৭৮ টি

মোট উপজেলা ৪৯৫ টি

মোট জেলা ৬৪ টি

মোট পৌরসভা ৩৩০ টি

মোট পৌরসভার ওয়ার্ড ৫,২৮০ টি

মোট সিটি করপোরেশন ১২ টি 

মোট সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড ৩৬০ টি 

মোট ২,৭৭,৯২৪ টি

এ বিশাল জনগোষ্ঠী নিজ নিজ কর্মদক্ষতায় নিজ এলাকায় ভূমি সেবা প্রদান করবে। 

কোন চাকরিই সুখকর নয়, কেননা একটা বয়সে মানুষ অন্যের দ্বারা প্রত্যক্ষ শাসিত হওয়াকে ব্যক্তিত্ব সংকট মনে করে। চাকরি তারাই পায় যাদের দক্ষতা আছে, আর যাদের দক্ষতা আছে তারা চাকরি করার চেয়ে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাধীনভাবে নিজে আয় করতে পারে এবং কয়েকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। উপজেলা ভিত্তিক ভূমি বিষয়ে কর্মরত সদস্যবৃন্দের বিশাল নেটওয়ার্ক আমাদের একটি শক্তি। একেকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আমরা সময় দিচ্ছি, কাজ করছি। ভূমি এমন একটি জায়গা যেখান থেকে মানুষের শত শত সুখ, বিভেদ, কলহ, খুন, অশান্তির সৃষ্টি। এখানে সমস্যার জঞ্জাল। যদি তাত্ত্বিক ও প্রাকটিক্যাল, টেকনিক্যাল নলেজ থাকে আমরা এ সেক্টরে কাজ করতে পারবো। একজন উপজেলা প্রতিনিধির অধীনে একটি উপজেলার ভূমি বিষয়ক যাবতীয় কিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রতিনিধি, জেলা ও বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ করা হবে। সবকিছু ঢাকা থেকে পরিচালিত হবে। এটি একটি বেসরকারী সংগঠন কিংবা Alliance রূপে কাজ করবে। আপনার প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ, দিক নির্দেশনা, টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রভাইড করা হবে। উপজেলা ভিত্তিক অফিসগুলি অনেকটা স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা ভোগ করবে। বাংলাদেশ ব্যাপী ভূমি তথ্য সংগ্রহ, সাধারণ সেবা, জমির রূপ, মূল্য প্রকৃতি বিশ্লেষণ গবেষণা ধর্মী কাজ করবে এ সংগঠনটি। ভূমি বিষয়ক বিভিন্ন পেশার মান উন্নয়ন, সেবার মান ও পরিধি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জমি বিরোধ নিষ্পত্তি, জনসচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি কাজও আমাদের উদ্দেশ্য। উপজেলা ভিত্তিক দক্ষ টিম গঠন করা যেতে পারে। নতুন আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। 


বেসরকারি ভূমি সেবার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:

১. ভূমি আইনের যুগোপযোগী সংস্কার করার উদ্যোগ ও সরকারকে পরামর্শ প্রদান।

২. রায়তদারদের স্বার্থ সংরক্ষণ

৩. ভূমির সুষম বন্টন

৪. সরকারি ভূমি সেবার সমস্যা নিরুপন ও সমাধান

৫. সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি ও হয়রানি রোধ

৬. গণসচেতনতা সৃষ্টি

৭. কর্মসংস্থান সৃষ্টি

৮. ভূমি বিষয়ক অপরাধের আইনি প্রতিকার

৯. ভূমি বিষয়ক বিরোধ ও সমাধান পদ্ধতির উন্নয়ন

১০. দেওয়ানি আদালত ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন

১১. দেওয়ানি মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রোধে উদ্যোগ

-চলমান

বেসরকারি ভূমি সেবা ফেসবুক পেইজ:

https://www.facebook.com/profile.php?id=100093687626690&mibextid=ZbWKwL

বেসরকারি ভূমি সেবা ফেসবুক গ্রূপ:

https://www.facebook.com/groups/besorkari.vumi.seba.somogro.bangladesh/?ref=share_group_link

লেখকের ফেসবুক প্রোফাইল লিংক: 

https://www.facebook.com/adv.mshahidullah?mibextid=ZbWKwL



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ