সাম্প্রতিক সময়ে রামুতে দু ভাইয়ের মধ্যে জমি বিষয়ে বিরোধের জের ধরে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা BDLAW ASK

সাম্প্রতিক সময়ে রামুতে দু ভাইয়ের মধ্যে জমি বিষয়ে বিরোধের জের ধরে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা

সাম্প্রতিক সময়ে রামুতে দু ভাইয়ের মধ্যে জমি বিষয়ে বিরোধের জের ধরে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। আজকে জানানোর চেষ্টা করবো এই আইন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয়:


এই আইনের পুরো নাম: "আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, 2002"। যা ২০০২ সালের ১১ নং আইন। প্রায় একই নামে আরেকটি আইন আছে যার নাম হলো: "দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইন, 2002"। দুটি একে অপর থেকে ভিন্ন। দুটি আইনই কতিপয় অপরাধের বিচার করার জন্য হলেও আদালত কিংবা বিচারক দুটি আইনে দুরকম। আরো পার্থক্য পরে জানবো বা অন্য কোন পোস্টে। 


এই আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে:


"আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কতিপয় অপরাধের দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন"


সেসব অপরাধ গুলি সংজ্ঞা ধারা 2 তে উল্ল্যেখ আছে। তার কিছু সংক্ষেপে অপরাধ হলো: 


১. চাঁদাবাজি


২. ছিনতাই


৩. শক্তি মহড়া বা ত্রাস সৃষ্টি


৪. যানবাহন ভাঙচুর


৫. স্থাবর অস্থাবর সম্পদের ক্ষতিসাধন


৬. সরকারি কাজে বাঁধা


৭. টেন্ডারবাজি


এখানে মোট ধারা আছে ১৫, আদালতের নাম 'দ্রুত বিচার আদালত', বিচারক হিসাবে আছেন একজন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।


এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ (২০১৮ সালে ৫ থেকে বাড়িয়ে ৭ করা হয়েছে) বছর ন্যূনতম ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড এরসাথে আছে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ। 


এই আইনে জামিনের বিধানও আছে ১৩ ধারায়। আপীল করা যাবে জেলা দায়রা আদালতে। এই আইনে কেউ মিথ্যা মামলা দায়ের করলে শাস্তি আছে ২ থেকে ৫ বছর। 



অপর দিকে 

দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইন, 2002 আইনে আদালত হিসাবে থাকবে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল। বিচারক হিসাবে থাকবেন জেলা বা দায়রা জজ।


এই আইনের প্রস্তাবনায় আছে - 


" কতিপয় অপরাধের ত্বরিত বিচারের জন্য প্রণীত আইন"


অপরাধ সমূহ আইনে নির্ধারিত নাই। কিন্তু বলা আছে এই ট্রাইব্যুনাল সেসব অপরাধের বিচার করবে যেসব মামলা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের কাছে স্থানান্তর করবে। উক্ত অপরাধের বিচার বিষয়েও ট্রাইবুনাল কতৃক সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করবে যার একটি কপি সরকারের কাছেও পৌঁছাবে। অর্থাৎ এই ট্রাইবুনাল সরকারের নিয়ন্ত্রিত ট্রাইবুনাল বলা যায়। এই আইনে আপীল আদালত হলো সুপ্রিম কোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে। 



আজ এতটুকুই। জানা গেল জমি বিরোধের শত্রুতা কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ