ভূমি অফিসে আমার প্রথমদিনের অভিজ্ঞতা BDLAW ASK

ভূমি অফিসে আমার প্রথমদিনের অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি আমি ছোট্ট একটি কাজে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়েছিলাম। একটি চিঠি পৌঁছে দিতে হবে সরাসরি এশিল্যান্ডের হাতে। চিঠিটা কি বিষয়ক আমি অত খেয়াল করিনি। এসিল্যান্ড অফিসের দিকে যাত্রা পথে অনেক কিছু মনে উঁকি দিচ্ছে। দুর্নীতি, ঘুষ সহ বিভিন্ন কিছু শুনে আসছি অনাদি কাল ধরে। আজকে সেই অভিজ্ঞতা হবে যা কখনো চোখেও দেখিনি। 


গুটি গুটি পায়ে অফিসের কাছাকাছি চলে আসলাম। আমি এডভোকেট পরিচয় দিবনা এই ছিল মনে। আমজনতার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে এই বাসনায়। 

তথ্য সেবা টাইপ একটি কক্ষে প্রবেশ করলাম। চারদিকে চারটা টেবিলে লোক বসা। কিছু লোক আছে কৃষক গোছের যারা একজনের একটি টেবিলের আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে। একজন লাল দাঁড়ি ভর্তি কোর্ট পরিহিত। আরেকজন কম্পিউটারে ডাটা এন্ট্রি কাজে ব্যস্ত। 


আমি চিঠিখানা বাড়িয়ে দিয়ে একজনকে বললাম;  ভাই এটা একটু রিসিভ করেন। 

এটা কী?

চিঠি। ডিসি অফিস থেকে পাঠিয়েছে।

আমি না। লাল দাঁড়িওয়াল লোকটার দিকে দেখিয়ে বললেন; উনাকে দেন। 


আমি উক্ত লোকটার টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম এবং চিঠিটা এগিয়ে দিলাম। উনি চিঠিটা উল্টে চিৎ করে একপলক দেখলেন এবং ফেরত দিয়ে কম্পিউটারে কাজে ব্যস্ত লোকটির দিকে দেখিয়ে দিলেন। 


উক্ত লোকটি হ্যান্ডসাম, থার্টি আপ, ক্লিনসেভ করা। ভদ্র কিনা তা উনার কথায় হাড়ে হাড়ে একটু পরেই টের পাবো। 

আমি উনাকে চিঠিখানা দিলাম। বললাম একটি রিসিভ করতে। উনি জিজ্ঞেস করলেন কী চিঠি। আমি বললাম ডিসি অফিস থেকে এসেছে। এসিল্যান্ড স্যারকে দিতে বলেছেন।


স্যার তু নাই। উনি চলে গেছেন। 


আমি বললামঃ তাহলে কী করা যায়। আমি তু সময় পাইনা।


আপনি কী করেন? আপনি কে? আপনি কিভাবে সংশ্লিষ্ট 

এই চিঠির সাথে? 


আমি তার এত প্রশ্নের সংক্ষেপে জবাব দিলাম হুম; আমি সংশ্লিষ্ট। 


তাহলে উনাকে দেন আর বললেন এটা কী চিঠি একটু দেখেন তু।


আবার আগের ব্যক্তির কাছে আসলাম চিঠিখানা হাতে নিয়ে।


উনি চিঠি ছিঁড়তে ছিঁড়তে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কে? এই চিঠি আমার কাজ বিষয়ক কিনা। 


এতক্ষনে বিরক্ত হয়ে আমি পরিচয় দিলাম আমি একজন এডভোকেট। আমার সিনিয়র এর চিঠি আমাকে দিয়েছেন কোন লোক পাননি বলে। 


এতক্ষনে সে চিঠি রিসিভ করেছে বটে আমি যখন প্রাপ্তি স্বীকার পত্র চাইলাম তিনি দিবেন না। আমি বললাম তাহলে এই চিঠি যে আমি দিয়ে গেলাম তার কি প্রমান থাকলো, পরে তু আপনি অস্বীকার ও করতে পারেন। এই কথা বলায় তিনি কম্পিউটারে বসা লোকটির কাছে যেতে বললেন। আমি তার নিকট গিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র চাইলে তিনি রেগে গেছেন খানিকটা এবং বললেন চিঠি খানা নিয়ে তারা কোন অপরাধ করেছেন কিনা। আরো বলেন এভাবে চিঠি নেয়ার নিয়ম নেই হেনতেন অনেক কিছু। তাদের নাকি চিঠি বহন করার জন্য অফিসিয়াল লোক আছে। সাধারণ পাবলিক থেকে চিঠি নেইনা। আমি ধর্যসহকারে সব শুনেছি রেগে যায়নি। কোন বিষয়ে আমি রেগে যাবোনা এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে গেছিলাম। 

তারপর আমি একজনের নাম্বার হলেও চাইলাম তারা সেটিও দিতে নারাজ। উক্ত চিঠি খানা তহসিলদার বরাবরে ফরওয়ার্ড করে দিতে হবে এবং সেজন্য 100 টাকা খরচ দিতে হয়। আমি 100 টাকা দিলাম যে চিঠিখানা নিয়েছিল। তিনি টাকা নেয়নি এবং বলতেছিল আরো অনেক টাকা নাকি তারা নেয়। আমাকে একটা ছবি তুলে নিতে বলল উক্ত চিঠির যেন আমি পরবর্তী সোমবারে এসে খবর নিই।


আমি চলে আসলাম এবং পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করলাম সিনিয়রএর কাছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম সাধারণ পাবলিক থেকে চিঠি না নেওয়ার কাহিনী কী? এদের কিছু বার্তা বাহক আছে যারা এই কাজ করেন। তারা ঠিক মত চিঠি পৌঁছে দেয়না তাই আমাকে দেয়া হয়েছিল। 


আমি পরবর্তী সোমবারে বিয়ে কাজটা বুঝে নিলাম।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. আমার মায়ের জমি মামাতো ভায়েরা খারিজ করে নিয়ে মায়ের জমি আর নাই!
    ভুমি কমিসনার কি খারীজ বাতিল করার আইন আছে?

    উত্তরমুছুন

If you have any question, please let me know.