পুলিশি রাষ্ট্রের তিনটি বড় সমস্যা BDLAW ASK

পুলিশি রাষ্ট্রের তিনটি বড় সমস্যা

 পুলিশি রাষ্ট্রের তিনটি বড় সমস্যা


১. তদন্ত: 

পুলিশকে একমাত্র তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালত কিংবা জজের ও তদন্ত করার ক্ষমতা নেই। ম্যাজিস্ট্রেট পুনঃ তদন্তের জন্য থানাকে নির্দেশ দিতে পারে।  অথবা থানার তদন্ত রিপোর্ট কে অগ্রাহ্য করে মামলা আমলে নিতে পারে ঠিক তদন্ত করতে পারেনা। সাধারণত; পুলিশের দেয়া তদন্ত রিপোর্ট এর উপর ভিত্তি করে বিচার প্রক্রিয়া কার্যক্রম অগ্রসর হয়।


২. গ্রেপ্তার: 

আদালতে অথবা থানায় মামলা বা অভিযোগ করলেন এরপর আসামি গ্রেপ্তার করার দায়িত্ব পুলিশের। এক্ষেত্রে পুলিশ গড়িমসি শুরু করলে, আসামি পুলিশের পৃষ্টপোষকতা পেলে গ্রেপ্তার তু দূরের কথা দেখবেন তাদের শালা দুলাভাই সম্পর্ক হয়ে গেছে। পুলিশ বলবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, ধরতে পারছিনা। এক্ষেত্রে আদলতও অসহায়।


৩. আইনের প্রয়োগকারী সংস্থা: 

কত কত আইন তৈরি হচ্ছে, কত চুল ছেড়া বিশ্লেষণ আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত। অথচ সেই আইনসমূহের বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ করার ভার পুলিশের উপর যার কোন আইনের উপর পড়াশোনা নেই। আইন আমি পড়িনি, জানি ও না, কি প্রয়োগ করব? কোন আইনে কি অপরাধ সেটা কি পুলিশ পড়েছে? মাত্র ডিগ্রি কিংবা যেকোন সাবজেক্টে অনার্স করে এসআই, ওসি হয় তারা কি জানে কোন আইনে কোনটি অপরাধ? এজন্যই দেখা যায় পুলিশের নাকের ডগায় বসে অপরাধীরা অপরাধ করছে। ঘুষ ছাড়াও আরো একটি কারণ হলো পুলিশ নিজেও জানে না এটি কোন আইনে কি শাস্তি, কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কিছু প্রচলিত , দেখা দেখি আইনের প্রয়োগ ছাড়া পুলিশ অন্য বা নতুন কিছু করেনা। এজন্যই ভুরি ভুরি আইন পড়ে আছে আইনের বইয়ে, বাস্তবায়ন নেই বা প্ৰয়োগ নেই। কারণ হলো বাস্তবায়নকারী নিজেই জানে না কি প্ৰয়োগ করতে হবে, কিভাবে করতে হবে। নিয়োগ পাওয়ার পর সারদায় একটি শালার পুত শালা টাইপ ট্রেনিং, আর থানায় এসে পি আর বি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি এর কিছু ধারা পড়াশুনা করে, আর দেখে দেখে কিছু শিখে শুরু হয়ে যায় আইনের জন্ম লগ্ন থেকে এপর্যন্ত প্রণয়ন করা সমস্ত আইনের একমাত্র প্রয়োগকারী সংস্থা। 


আমি পুলিশকে ছোট করছিনা। অনেক ক্রিয়েটিভ কাজও উনারা বর্তমানে করার চেষ্টা করছেন সেজন্য সাধুবাদ । কিন্তু উপরের সিস্টেম ব্রিটিশদের ভিনদেশি শাসন কায়েম রাখার জন্য তৈরি করেছিল যা আমরা আমাদের শাসন শোষণ একই স্টাইলে বা আরো খারাপ ভাবে প্ৰয়োগ করছি। 


এর আশু পরিবর্তন করতে চাই।

আমি পরিবর্তনে আমরণ বিশ্বাসী। 


লেখক: 

মু. শহীদুল্লাহ

আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

If you have any question, please let me know.