ইয়াবা কারবারীদের নিয়ে দুটি কথা। BDLAW ASK

ইয়াবা কারবারীদের নিয়ে দুটি কথা।


দুটি কথা।।। 

তাদের উদ্দেশ্যে-

যারা আগে ইয়াবা ব্যবসা করত, এখন করেনা। কিন্তু আতংক কাটছেনা। 
অথবা যারা আগে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে, এখন থেকে আর করবেনা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কিন্তু ভয় ও আতংকে স্বাভাবিক জীবনেও ফিরতে পারছেন না। 

তাহলে, 
ইয়াবা কারবারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উপায় কি? 

এই বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারকে ইয়াবা মুক্ত ঘোষণা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশের ঘোষণা ইয়াবা কারবারীদের বাড়ি ঘরে গায়েবী হামলা এমনকি গায়েবী অগ্নিসংযোগ ও হতে পারে। 

সুতরাং মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান বুঝতেই পারছেন।

ইয়াবা কারবারিরা ও মানুষ কিন্তু কিছুটা অস্বাভাবিক। কিন্তু তাদের ও পরিবার  আছে। সন্তান সন্ততি আছে। এখন ভাবছেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন তাহলে আমি দুটি কথা বলি আপনাদের পরিবারের স্বার্থে...

মনে রাখুন, আইন আদালত বা আইনজীবী আর আপনার জন্য কিছু করতে পারবেনা। প্রশাসনের বড় কর্তা? না ভুলে আছেন। কোন বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি আপনাকে রক্ষা করবেন? কখনো না। খুঁজ নিয়ে দেখুন তিনিও অন্য কোন বড় নেতাকে নিজে বাঁচার জন্য খুঁজছেন। আপনার টাকা আপনাকে বাঁচাবে! মহা ভুলে আছেন। টাকা ও যাবে সাথে প্রাণ ও। এখন সে নীতি আর নেই। তাহলে উপায় কী?

১. আপনার বিরুদ্ধে যদি মামলা থেকে থাকে কোর্ট সারেন্ডার করুন দ্রুত। জামিনে বাইরে থাকলে মামলার কাগজ পত্রাদি নিয়ে নিকটস্থ থানায় গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন, পুলিশ প্রশাসন কে আশ্বস্থ করুন আপনি আর এগুলো করছেন না। এতে পুলিশের পরামর্শ মেনে চলুন। কিন্তু ভুলেও দ্বিতীয়বার ইয়াবা ব্যবসায় পা দিবেন না। 

২. আপনার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই, অথবা জানেন না মামলা আছে কিনা। কিন্তু ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তবে এখন করছেন না।  হয়তো ভাবছেন আগের ব্যবসায় থাকার কথা এগুলো কেউ জানবে না। পুলিশ ও জানবেনা। এরকম ভাবলে ভুল হবে। ব্যবসায় একদিনের জন্য হলেও জড়িত থাকলে যা করণীয়: 

> আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্ম সমর্পণ করুন। কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান। প্রতিজ্ঞা করুন আর এসব করবেন না। এরপর

>নিকটস্থ থানায় সরাসরি ওসির সাথে যোগাযোগ করুন।

> নিজের পরিচয়, নাম, ঠিকানা সবই ওসি মহোদয়কে বলুন।

> সত্যি সত্যি বলুন কবে, কতদিন, কিভাবে ইয়াবার সাথে জড়িত ছিলেন সব তথ্য ওসিকে দিন। কিন্তু কোনকিছু কম বা বেশি, মিথ্যা বলবেন না। কাউকে অযথা ফাঁসিয়ে দিবেন না। 

> ওসি মহোদয়কে জিজ্ঞেস করুন আপনার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ, তথ্য অথবা ইয়াবা কারবারীদের তালিকায় আপনার নাম আছে কিনা। গুরুতর ব্যবসায়ী হলে জেনে নিন আপনাকে কবে বন্দুক যুদ্ধে নিহত করা হবে। অথবা জেনে নিন আপনাকে নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পরিকল্পনা কী? 

> এখন আপনি কি চাচ্ছেন বলুন। আপনি যদি সত্যি করে বলেন যে আপনি আর ব্যবসা করবেন না। কারবারীদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। পরিবারকে রক্ষা করতে চান। কিন্তু ধোঁকার আশ্রয় নিবেন না। 

> এবার ওসি মহোদয়ের মতামত বা পরামর্শ নিন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আপনার করণীয় সম্মন্ধে। 

> টাকা চাইলে দিয়ে দিন। কারণ এসব আপনার অবৈধ উপার্জন। সুতরাং এগুলি সম্পূর্ণ দিয়ে দেয়াই ভালো। কিন্তু আমি আশা করি পুলিশ টাকা দাবি করবে না। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পূর্ণ টাকা গরীবদের গোপনে দিয়ে দিন। রেখে দিলে ভবিষ্যতে আপনার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। 

> পুলিশ আটক করে চালান দিলে জেল খাটুন। ভাবুন এটাই আপনার ক্রসফায়ার থেকে ভাল এবং আপনার অপরাধের ফল যা আপনি ভোগ করতে বাধ্য।

> ওসি মহোদয়ের পরামর্শ শুনুন।

> আশা করি পুলিশ প্রশাসন আপনাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। 

> আপনাকে যদি পুলিশ বলে ইয়াবা ব্যবসা এখন ছেড়ে দেয়ার এবং পুলিশের কাছে নিজেকে সমর্পণ করায় ছেড়ে দেয়া হলো, আপনি নিরাপদে থাকুন, স্বাভাবিক জীবন যাপন করুন। 

> এরপর আপনি প্রতি মাসে একবার থানায় যোগযোগ করুন। নিজে কি করছেন, কিভাবে উপার্জন করছেন এসব তথ্য দিয়ে আসুন।

> থানায় আপনার ফোন নম্বর দিয়ে আসুন। এবং বলে আসুন কেউ আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আপনাকে যেন জানিয়ে পুলিশ ব্যবস্হা নেয়। প্রয়োজনে আপনার শত্রু বা ইয়াবা সূত্রে পরিচিত বা শত্রুদের আগে থেকে পরিচয় দিয়ে আসুন যারা আপনার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিতে পারে।

> আশা করছি আপনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

এরপরও যদি মেরিন ড্রাইভ আপনার ঠিকানা হয় তাহলে আপনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত ছাড়া আর কিছু নয় কারণ আপনার ইয়াবায় বহু পরিবার, বহু সংসার ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। আপনার নসিব এমনই। 

পাদটিকা: আজ বিখ্যাত বখতিয়ার মেম্বার খতম। কদিন আগে ইয়াবা কারবারি মামুনের বাড়িতে গায়েবী আগুন। সুতরাং একশন শুরু।


জানিয়ে রাখি: 
আমি আইনের স্বপক্ষে। এ ব্যাপারে বলি:
মাদককে সমূলে উৎপাটন করার জন্য ১৯৯১ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আরোপ করে। 
কিন্তু ঘুষ এবং আইনের শাসন না থাকায় ইয়াবা কারবারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে আসে পুলিশের হাতে।
এরই ধারাবাহিকতায় ইয়াবা কারবারীদের ক্রসফায়ার হচ্ছে, হবে। 
যথার্থত: মেরিন ড্রাইভকে কেন্দ্র করে পুলিশ বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। 
ইয়াবা কারবারীদের শ্রেণীবিভাগ করলে অনেক রকম কারবারি পাওয়া যায়। 
ইয়াবা ডন, মদদ দাতা, আশ্রয় দাতা, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা, আমদানি কারক, সীমান্ত বাহক, আন্তঃবাহক, খাদক, ডিলার, মজুদকারী, এজেন্ট, মাসোয়ারা আদায়কারী, তথ্য সংগ্রাহক, সশস্ত্র বাহক বাহিনী। এরা সবাই ইয়াবার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং সমান অপরাধী।
কারবারীদের ও ছোট বড় আছে।
সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার এমন পরামর্শ দেয়া ছাড়া অন্য কোন  উপায় নাই। 


লেখক: শহিদ রাসেল
আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ