আইনে শাহেদের মতো প্রতারকের শাস্তি কী? শুধু কি ৭ বছর জেল? BDLAW ASK

আইনে শাহেদের মতো প্রতারকের শাস্তি কী? শুধু কি ৭ বছর জেল?


প্রচলিত দণ্ডবিধি আইনে শাহেদের মতো প্রতারকের বিচার সম্ভব নয়। কারণ এটি সাধারণ কোন প্রতারণা নয়। যেহেতু দণ্ডবিধির প্রতারনার ৪২০ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর। 

আইনের অপ্রতুলতার জন্য শাহেদ ছাড়া পেয়ে যাবে। তার যে অপরাধ সে অপরাধের ধারা দণ্ডবিধি ১৮৬০ তে নাই। প্রতারণা করে হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়া আর কিছুই হতে পারেনা। কিন্তু এরকম ধারা আইনে নাই। তাই আইন সংশোধন করে শাহেদের বিচার করা উচিত যেরকম টা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য করা হয়েছিল। আর বর্তমান পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন কিংবা সংশোধন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। দণ্ডবিধির প্রতারনার ধারা ৪২০ এর পর ৪২০ (ক) যোগ করা দরকার। নতুন ৪২০ (ক) তে উল্লেখ করা উচিত, কেউ প্রতারণা বা জালিয়াতি অথবা ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়া অথবা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলে অথবা রাষ্ট্রের মর্যাদা হানি করলে তার অপরাধের মাত্রার উপর ভিত্তি করে তার শাস্তি ৭ থেকে ১৪ বছরের জেল অথবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড অথবা মৃত্যুদন্ড

তাই দুইভাবে শাহেদের শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে:

১. হাজার হাজার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, প্রতারণা করে ইতিমধ্যে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন এসবের আর্থিক শাস্তি হিসেবে শাহেদের অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। (দুর্নীতির মামলা)

২. ভুয়া রিপোর্টের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য মৃত্যুদন্ড অথবা আমরণ কারাদন্ড ছাড়া অন্য কোন শাস্তির যোগ্য সে নয়। এজন্য দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা একটি দুর্বল ধারা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে যেহেতু প্রত্যক্ষ কোন খুনের প্রমান নাই। তাই নতুন আইন প্রণয়ন করে রিট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট দিয়ে শাহেদের বিচার হওয়া উচিত। অথবা দণ্ডবিধির ৪২০ (ক) ধারা সংযোজন করা উচিত।


ভয়ের কারণ এই যে,  RAB এর জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে 
ইতোমধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে, "আমাকে ৬ মাসের বেশি আটকে রাখতে পারবে না"। এবং যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম তার খবর ও ছবি প্রকাশ করছেন তাদেরকেও দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

তার এহেন হুমকি মোটেও অমূলক নয়। কারণ প্রতারক হিসেবে বহু মামলার আসামি সে ছিল, সে জানে আইনে তার কিরকম শাস্তির ব্যবস্থা আছে। 

তাই এ ব্যাপারে থানায় পুলিশ কতৃক ঠুনকো কোন প্রতারনার মামলা দেয়া উচিত হবেনা। 

কদিন পরে মামলায় জামিন কিংবা দুয়েক বছর পর জেল ছাড়া পায় তখন মানুষ বলবে আইন আদালত টাকার খেলা।  সুধীরা বলবে আইনে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী প্রমান নেই যে খুনের অপরাধে অপরাধী হবে।

তাই পূর্বেই এখন প্রতারণার উপর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আইন প্রণয়ন করে রিট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট দিয়ে তার বিচার করা উচিত।

তড়িঘড়ি করে প্রচলিত আইনে বিচার হয়ে গেলে কিন্তু ফৌজদারি আইনে দ্বিতীয়বার বিচার করা সম্ভব নয়। কারণ উপযুক্ত আদালত কতৃক একবার বিচার হয়ে গেলে আইনেই তার সুরক্ষা আছে দ্বিতীয়বার শাস্তি প্রয়োগ আইন ও সংবিধান বিরোধী। 

লেখক: শহিদ রাসেল
আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ