নামজারি কিভাবে করবেন? BDLAW ASK

নামজারি কিভাবে করবেন?




যেভাবে পূর্ণাঙ্গ আবেদন করবেন তা ধারাবাহিকভাবে নিম্নে বর্ণণা দেয়া হল:


১. আবেদন ফরম সংগ্রহ: 

অনেক ভূমি অফিসে সকল প্রকার ফরম্, কোর্ট ফি (২০ টাকা) সহ মাত্র ৫০ টাকায় প্রদান করা হয়। এই লিংক থেকেও ফরম ডাউনলোড করতে পারেন: Download


২. আবেদন ফরম পূরণ:

আবেদন ফরমের সকল তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করবেন। বিএস খতিয়ান নম্বর বা বিএস দাগ নম্বর জানা না থাকলে আপনার সাথে যে খতিয়ানের উপরে লেখা আছে তা দেখে পূরণ করুন। আবেদন পূরণ হয়ে গেলে নীচে আপনার স্বাক্ষর এবং অবশ্যই আবেদনকারীর প্রকৃত মোবাইল নম্বর (যেখানে পরবর্তীতে আপনার মেসেজ যাবে) তা উল্লেখ করুন। এবার আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি আবেদনপত্রের উপর সংযুক্ত করুন।


৩. আবেদন ফরম জমাদান: 

অন্য সকল কাগজপত্র একত্রে সংযুক্ত করে হেল্পডেস্ক বা সেবাকেন্দ্রে জমা দিন। সেখানে আপনাকে একটি রশিদ দেয়া হবে এবং পরবর্তী তারিখগুলি জানিয়ে হবে। 

(যদি এতেও আপনার কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে এসিল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করুন, আপনার কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা তাও প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হবে। ভূমি অফিসের ফ্রন্টডেস্কের কর্মচারীদের সম্পর্কে ওয়েবসাইটে তথ্য দেয়া থাকে।)


৪. এসিল্যান্ড এর নিকট উপস্থাপন:

আপনার দাখিলকৃত আবেদন পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নিকট উপস্থাপন করা হবে।


৫. তহসিলদার এর নিকট প্রেরণ:

পরে তা সংশ্লিষ্ট ভূমি-সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার নামে অধিক পরিচিত) নিকট প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য পাঠানো হবে। 

(ভূমি-সহকারী কর্মকর্তার নিকট আপনার আবেদন পাঠানো হলে আপনাকে SMS এর মাধ্যমে জানানো হবে। উক্ত SMS পাবার পর আপনি ভূমি-সহকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন।)


৬. তহসিলদারের নিকট কাগজপত্র উপস্থাপন এবং বকেয়া খাজনা পরিশোধ:

এর মধ্যে আপনি/আপনার উপযুক্ত প্রতিনিধিকে আপনার আবেদনে যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছিলেন তার মূলকপি ভূসকের নিকট প্রদর্শনের জন্য এবং বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য যেতে হবে। উল্লেখ্য, ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া থাকলে বর্তমানে কোন নামজারি করা হয় না। 


৭. তহসিলদার কতৃক কাগজপত্র পরীক্ষা ও প্রতিবেদন দাখিল:

ভূসক কর্তৃক আপনার সকল কাগজপত্র যাচাইয়ের পর তিনি একটি প্রতিবেদনসহ এসি ল্যান্ড অফিসে প্রেরণ করবেন। 

(এ পর্যায়ে SMS এর মাধ্যমে আপনাকে জানানো হবে কখন আপনার আবেদন এসি ল্যান্ড অফিসে পৌঁছেছে।)
উল্লেখ্য: ভূমি-সহকারী কর্মকর্তা (ভূসক)’র নিকট আপনার আবেদন প্রেরণের ২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন এসি ল্যান্ড অফিসে দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 


৮. শুনানি:

এ পর্যায়ে আপনাকে আবেদন প্রাথমিকভাবে যথার্থ পাওয়া গেলে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষদেরকে নিয়ে শুনানীর জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। 


৯. এসিল্যান্ডের নিকট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ:

শুনানীর দিন কোন আপত্তি না পাওয়া গেলে সর্বশেষে তা এসি ল্যান্ডের নিকট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। 

(ভূসকের নিকট হতে এসি ল্যান্ড অফিসে নামজারির নথি আসার পর সর্বোচ্চ ২০ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার আবেদন অনুমোদন (যথার্থ থাকলে)/ খারিজ (যৌক্তিক কারণে) হবে যা আপনাকে SMS এর মাধ্যমে জানানো হবে।)


১০. খতিয়ান প্রস্তুত:

আপনার নামজারির আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের পর খতিয়ান প্রস্তুতের জন্য ২ দিন সময় লাগে। কারণ এ পর্যায়ে রেকর্ড হতে অনুমোদিত হিসাব অনুযায়ী জমি কর্তন করা হয় এবং প্রস্তুতকৃত খতিয়ান স্বাক্ষর করার জন্য উপস্থাপন করা হয়। 


১১. নামজারী ফি পরিশোধ:

এই পর্যায়ে আপনাকে এসি ল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ) বা সহজ কথায় নামজারি ফি বাবদ ১১৫০/- পরিশোধ করে খতিয়ান সংগ্রহ করতে হবে। 

বি:দ্র: সিটি কর্পোরেশন এ নামজারীর ক্ষেত্রে এখানে উল্লেখিত নিওমসমূহের কিছুটা ব্যতিক্রম থাকতে পারে। 

নোট: নামজারীর এখানে উল্লেখিত নিয়মগুলোর সাথে ভূমি অফিসের বাস্তব চিত্র নাও মিলতে পারে। তবে নিয়মটি জানুন, সচেতন হউন।

এভাবেই আপনার নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আশা করি বিষয়টি খুব কঠিন মনে হয় নি।



কখন খতিয়ান করতে হয়?


১. যদি জমির মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার উত্তরাধিকার গণ খতিয়ান হালনাগাদ করতে চাইলে

২. জমি ক্রয় বিক্রয়ের ফলে নতুন মালিকের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে 

৩. নতুন চর সৃষ্টির ফলে জমির মালিকানা অর্জিত হলে অথবা SAT আইনের ৯০, ৯১, ৯২, ৯৩ ধারা অনুসারে
আদালতের ডিক্রি বলে জমির মালিকানা লাভ করলে
খাস জমি বন্দোবস্তির ক্ষেত্রে



নামজারী করতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন?


১. মূল আবেদন ফরম্  (এটি বাধ্যতামূলক)

২. এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জন্যও প্রযোজ্য) (বাধ্যতামূলক)

৩. সর্বশেষ খতিয়ান (যাঁর নিকট হতে জমি ক্রয় করেছেন বা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন তাঁর খতিয়ান) (এটি বাধ্যতামূলক) [খতিয়ানের একটি ফরম্যাট দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

৪. ২০ টাকা মূল্যের কোর্ট ফি (বাধ্যতামূলক)

৫. ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা লাভ করলে অনধিক তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত মূল ওয়ারিশন সনদ (শুধুমাত্র ওয়ারিশগনদের জন্য বাধ্যতামূলক)। এর সাথে মনে রাখতে হবে যে, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩B ধারা মোতাবেক কোন রেকর্ডিয় মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশগণ নিজেদের মধ্যে একটি বন্টননামা সম্পাদন করে রেজিস্ট্রি করবেন। উক্ত রেজিস্টার্ড বন্টননামাসহ নামজারির জন্য আবেদন জানাবেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য-বেশিরভাগ ওয়ারিশগণ এই নিয়মটি প্রতিপালন করেন না এবং ভবিষ্যতে সমস্যার মুখোমুখি হন। 

৬. জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/জাতীয়তা সনদ (ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যুকৃত) (বাধ্যতামূলক)

৭. ক্রয়সূত্রে মালিক হলে দলিলের সার্টিফায়েড/ফটোকপি (ক্রয়সুত্রে মালিক হলে বাধ্যতামূলক)

৮. বায়া/পিট দলিলের ফটোকপি (একাধিকবার উক্ত জমি ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকলে সর্বশেষ যার নামে খতিয়ান হয়েছে তার পর থেকে সকল দলিলের কপি প্রয়োজন হবে, অর্থাৎ বাধ্যতামূলক)

৯. চলতি বঙ্গাব্দ (বাংলা সনের) ধার্যকৃত ভূমি উন্নয়ন কর (এলডি ট্যাক্স) বা খাজনার রশিদ (বাধ্যতামূলক)

১০. আদালতের রায়ের ডিক্রির মাধ্যমে জমির মালিকানা লাভ করলে উক্ত রায়ের সার্টিফায়েড/ফটোকপি (বাধ্যতামূলক)


উল্লেখ্য, উপরোক্ত কাগজপত্রের সবগুলিই যে আপনার জন্য প্রয়োজন হবে, তা নাও হতে পারে। কোনভাবে আপনি মালিকানা লাভ করেছেন তার উপর নির্ভর করবে কোন্ কোন্ সংযুক্তি আপনার প্রয়োজন হবে। 


© লেখাটি লেখক কতৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত



লেখক: শহিদ রাসেল
আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

If you have any question, please let me know.